স্থাপত্য বিভাগের শিক্ষার্থী রুম্মান মাসরুর বলেন স্থাপত্যে সৃজনশীলতার অনেক জায়গা আছে
প্রধানত এ জন্যই বিষয়টি পছন্দ করা
এখানে ভর্তি পরীক্ষায় তত্ত্বীয় বিষয়গুলোতেও ভালো করতে হবে
তাহলে নম্বরের দিক থেকে এগিয়ে থাকা যায়
ফলে সুযোগ পাওয়া সহজ হয়
আর যেহেতু মুক্তহস্ত অঙ্কন আছে সে জন্য আঁকার হাতটাও ভালো থাকা জরুরি
তাসনুভা রহমানের ছোটবেলা থেকেই ভিজুয়াল আর্টস অ্যাবস্ট্রাকশন অব আর্টস—এসবের প্রতি ঝোঁক ছিল
তাই স্থাপত্যে পড়া
নতুন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন তারা যেন সব সময় পেনসিল ও স্কেচবুক সঙ্গে রাখে যাতে কোনো জিনিস দেখলে—যেভাবেই হোক না কেন—যেন তা আঁকার চেষ্টা করতে পারে
তাহলে বিষয়টি তাদের কাছে পরিষ্কার হয়ে যাবে এবং তারা সে অনুযায়ীই নিজেদের প্রস্তুত করে তুলতে পারবে
স্থাপত্যবিদ্যার অন্যতম আকর্ষণীয় জায়গাটি হলো এর সৃজনশীলতা
এর পাশাপাশি ব্যবহারিক জ্ঞানটি খুবই জরুরি
বুয়েটের স্থাপত্য বিভাগের প্রধান অধ্যাপক জেবুন নাসরিন আহমেদ বলেন স্থাপত্যবিদ্যায় ব্যবহারিক দিকটি অনেক বেশি
বাস্তবে যা ঘটছে সে আলোকেই শিক্ষার্থীদের সমস্যাগুলো দেওয়া হয়ে থাকে
এ ক্ষেত্রে বইভিত্তিক জ্ঞানেরও দরকার আছে তবে বাস্তব জ্ঞানের কোনো তুলনা হয় না
কারণ শিক্ষার্থীরা তাদের অর্জিত বাস্তব জ্ঞানের আলোকেই সমস্যাগুলো সমাধান করে থাকে
বাংলাদেশে প্রতিনিয়ত অপরিকল্পিত আবাসনব্যবস্থা গড়ে উঠছে
আর পরিকল্পনামাফিক পরিবেশবান্ধব স্থাপনা গড়ে তোলার মধ্যেই একজন স্থপতির সার্থকতা
বর্তমানে আমাদের দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে দরকার হচ্ছে প্রয়োজনীয়সংখ্যক আবাসনের
আর উপযুক্ত স্থানে সঠিক পরিকল্পনায় বাসস্থান নির্মাণের ক্ষেত্রে স্থপতিদের কোনো বিকল্প নেই
বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেশে স্থাপত্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে
দেশে জনসংখ্যা  বাড়ছে বসতবাড়ি বাড়ছে
কিন্তু বাড়ছে না বসতি জমির পরিমাণ
স্বল্প জায়গা ব্যবহার করে পরিবেশ-উপযোগী             করে বসতি নির্মাণের দিকেই মানুষের মনোযোগ আজকাল বেশি
স্থপতি নাহাস খলিল বলেন একটি দেশের সামগ্রিক স্থাপত্য সে দেশের সমাজব্যবস্থা এবং মানুষের চাহিদার ওপর নির্ভর করে
এখানে স্থপতিরা চাইলেই নিজেদের ইচ্ছামতো কিছু করতে পারেন না
লুই আই কান সংসদ ভবনের নকশা করতে পেরেছিলেন
কারণ এ সুযোগটা বাংলাদেশ সরকার তাঁকে দিয়েছিল
মানসম্মত স্থাপত্যের জন্য প্রয়োজন উন্নত চিন্তাভাবনা
বাংলাদেশে প্রচুর মেধা রয়েছে
অনেক ভালো কাজ তাঁরা করছেন
ধীরে ধীরে দেশের মানুষও এখন এ বিষয়ে সচেতন হচ্ছে
দেখা যায় কোনো চিপা গলিতে বাড়ি নির্মাণের জন্যও মানুষ স্থাপতিদের কাছে যাচ্ছে
কারণ তারা স্থপতিদের ওপর নির্ভর করতে পারছে
তাই নিকট ভবিষ্যতে বাংলাদেশের স্থাপত্য একটি বিশ্বমানের জায়গায় পৌঁছাবে বলে আশা করা যায়
স্থপতি লুই কান ও সংসদ ভবন
আমাদের জাতীয় সংসদ ভবন
স্থাপত্যের ভাষায় যাকে বলা হয় মাস্টার পিস—বিশ্বের সেরা কয়েকটি স্থাপত্যের একটি
এটি আমদের গর্ব
আমাদের অহংকার ধারণ করে দাঁড়িয়ে আছে মাথা উঁচু করে
আর এই বিশ্বসেরা স্থাপত্য যাঁর হাত ধরে সৃষ্টি তিনি হলেন বিশ্বখ্যাত স্থপতি লুইস আই কান বা লুই আই কান
লুই কানের জন্ম ১৯০১ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন রাশিয়ার এস্তোনিয়ায়
১৯২৪ সালে পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লুই কান স্নাতক ডিগ্রি নেন
তারপর ঘুরে বেড়ান পৃথিবীর নানা প্রান্তে
কাজ করেন জন মলিটর জর্জ হুই অস্কার স্টনোরোভর মতো তৎকালীন নামকরা স্থপতিদের সঙ্গে
প্রথম দিকে লুই কান আন্তর্জাতিক মানের কাজ করলেও তাঁর নিজস্ব কোনো স্টাইল ছিল না
বয়স ৫০ পেরোনোর পর তিনি শুরু করেন সম্পূর্ণ নিজের ধরনের কাজ
জন্ম দেন একের পর এক নামকরা স্থাপত্য যার শেষের দিকের নিদর্শন আমাদের সংসদ ভবন
যে স্থাপত্য লুই কানকে স্থান দিয়েছে ইতিহাসের পাতায়
বাংলাদেশের তো বটেই বিশ্বেরও
জাতীয় সংসদ ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয় ১৯৬১ সালে
এটিকে তখন পূর্ব পাকিস্তানের সংসদ ভবন হিসেবে ভাবা হয়েছিল
স্বাধীনতার পর তা পরিণত হয় বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ ভবনে
১৯৮২ সালের ২৮ জানুয়ারি শেষ হয় এর নির্মাণকাজ
একই বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় সংসদের অষ্টম ও শেষ অধিবেশনে হয় এর উদ্বোধন
লুই কান এই বিশ্বসেরা স্থাপত্যের স্থপতি হলেও সর্বপ্রথম এই জাতীয় সংসদ ভবনের নকশা তৈরির দায়িত্ব পেয়েছিলেন বাংলাদেশের কিংবদন্তি স্থপতি মাজহারুল ইসলাম
বড় মাপের মানুষের মনও যে বড় হয় স্থপতি মাজহারুল ইসলাম তা আবারও প্রমাণ করেছেন
তিনি ছিলেন লুই কানের প্রিয় ছাত্রদের একজন
তিনিই লুই কানকে এ দেশে এনেছিলেন এবং সংসদ ভবনের নকশা তৈরির দায়িত্ব নিতে বলেছিলেন
তাঁর প্রিয় শিক্ষকই পারবেন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কিছু করতে—এই বিশ্বাস থেকেই জন্ম নিয়েছে জাতীয় সংসদ ভবনের মতো একটি বিশ্বসেরা স্থাপত্য
সংসদ ভবনের পুরো কমপ্লেক্সের নকশাটিই লুই কানের করা
কমপ্লেক্সের ঠিক মাঝখানে স্থাপিত মূল ভবনটি
এ ছাড়া কমপ্লেক্সজুড়ে আছে লন লেক ও এমপি হোস্টেল
কমপ্লেক্সটির চারপাশ দিয়ে গেছে চারটি প্রধান সড়ক
মূল ভবনটি তিনটি প্রধান ভাগে বিভক্ত—প্রধান প্লাজা দক্ষিণ প্লাজা ও রাষ্ট্রীয় প্লাজা
লেকটি যাতে নদীমাতৃক বাংলাদেশের পরিচয় বহন করে সেই দিকটি বিবেচনা করেছেন লুই কান
এটি লুই কানের এমনি এক সৃষ্টি যা কোনো নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নয়
এটি আধুনিক ও কালোতীর্ণ
লুই কান তাঁর এই অমর সৃষ্টিতে প্রাকৃতিক আলোর ব্যবহার করেছেন বিস্ময়করভাবে
তিনি এই ভবনে বৃত্ত অর্ধবৃত্ত বর্গ ত্রিভুজের কাঠামোগুলো দিয়ে একটি নতুন স্বাধীনতার আদর্শের আত্মপ্রকাশ ঘটাতে চেয়েছিলেন
তিনি পেরেছেনও
তাঁর হাত ধরেই জন্ম নিয়েছে একটি স্বাধীন দেশের নতুন দিনের আশার আলোকরেখা
১৯৭৪ সালে পেনসিলভানিয়ার এক রেলস্টেশনে হার্ট অ্যাটাকে মারা যান লুই কান
তিনি বেঁচে নেই ঠিকই কিন্তু তিনি তাঁর কাজের মাধ্যমে বেঁচে থাকবেন চিরকাল
যত দিন বাংলাদেশ থাকবে তত দিন থাকবে জাতীয় সংসদ ভবন
আর সংসদ ভবন ধারণ করে রাখবে তার স্থপতির নাম

তথ্যসূত্র ইন্টারনেট
লুই আই কানের কিছু বিখ্যাত কাজ
 ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয় আর্ট গ্যালারি—নিউ হ্যাভেন কানেকটিকাট ১৯৫১—৫৩
 রিচার্ড মেডিকেল রিসার্চ ল্যাবরেটরি— পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ফিলাডেলফিয়া ১৯৫৭—৬৫
 সল্ক ইনস্টিটিউট—লা জোলা ক্যালিফোর্নিয়া ১৯৫৯—৬৫
 প্রথম ইউনিটারিয়ান চার্চ—রোচেস্টার নিউইয়র্ক ১৯৫৯—৬৯
 ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট— আহমেদাবাদ ইন্ডিয়া ১৯৬২
 ফিলিপ্স একাডেমি লাইব্রেরি—এক্সিটর নিউ হ্যাম্পশায়ার ১৯৬৫—৭২
 কিম্বেল আর্ট জাদুঘর—ফোর্ট ওয়ার্থ টেক্সাস ১৯৬৬—৭২
 ইয়েল সেন্টার ফর ব্রিটিশ আর্ট—ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয় নিউ হ্যাভেন কানেকটিকাট ১৯৬৯—৭৪
স্থায়ী কমিটির বৈঠক
চাহিদা মেটাতে শুল্কমুক্ত চিনি আমদানির সুপারিশ
চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের মাধ্যমে শুল্কমুক্তভাবে সাদা চিনি আমদানি করার জন্য শিল্প মন্ত্রণালয়ের কাছে সুপারিশ করেছে শিল্প মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি
গতকাল মঙ্গলবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠক থেকে এই সুপারিশ করা হয়
সূত্র জানিয়েছে কমিটির মতে দেশে উৎপাদিত চিনি বাজারের চাহিদা মেটাতে সক্ষম নয়
এ কারণেই বাজার স্থিতিশীল রাখার জন্য শুল্কমুক্তভাবে বিদেশ থেকে চিনি আমদানির সুপারিশ করা হয়েছে
এ বিষয়ে গতকাল সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয় দেশবন্ধু চিনিকলের স্বত্বাধিকারী রপ্তানির নামে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের বিএসএফআইসি কাছ থেকে ছয় হাজার মেট্রিক টন চিনি কিনে তা খোলাবাজারে বিক্রি করেছে
কমিটি প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে
বৈঠকে বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশন বিএসইসি সম্পর্কে আলোচনা হয়
এ বিষয়ে জানানো হয় বর্তমানে বিএসইসি পরিচালিত চালু নয়টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সাতটি লাভজনক এবং দুটি পরিচালনাগত মুনাফা করেছে
বিএসইসি ২০০৯-১০ অর্থবছরে ৭১ দশমিক ৩৯ কোটি টাকা নিট মুনাফা করেছে
বৈঠকে কেরু অ্যান্ড কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের বন্ধ ডিস্টিলারি ইউনিটটি দ্রুত চালু করাসহ চার-পাঁচটি মিলকে রিফাইনারি করার সুপারিশ করা হয়
কমিটির সভাপতি তোফায়েল আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটির সদস্য কামাল আহমেদ মজুমদার মুহিবুর রহমান মানিক এস এম আব্দুল মান্নান মেরাজ উদ্দিন মোল্লা আনোয়ারুল আশরাফ খান আলী আজগার ও সুলতানা বুলবুল উপস্থিত ছিলেন
